শীর্ষ সংবাদ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / স্বদেশ / একজন আব্দুর রাজ্জাক জীবনে শেষ প্রান্তে চান সম্মান,স্বীকৃতি নয়!
received_1907387026176281

একজন আব্দুর রাজ্জাক জীবনে শেষ প্রান্তে চান সম্মান,স্বীকৃতি নয়!

এমরান আহমেদ ::
আব্দুর রাজ্জাক, দুরন্ত যুবক। সুকান্তের ভাষায় এখনই যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার।হয়তো সুকান্তেই পথ দেখেছিলেন সেদিন।১৯৬৬ সাল, বয়স মাত্র ২১ বয়স! রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গেলেন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে।সাথে ছিলেন আপন বড় ভাই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ঝড় তোলা ইন্সপেক্টর রুপা মিয়া।
রাজ্জাক রিক্রুট হলেন পুলিশ বাহিনী, হয়তো মনবাসনাই ছিলো যুদ্ধ জয়।সারদা ট্রেনিং এ থাকালীন সময়ে শারীরিক ফিটনেস এবং এক্রোবেটিক প্রদর্শনী দিয়ে হয়ে গেলেন প্রশিক্ষক।এভাবেই থেকে গেলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কয়েক বছর।
ধীরে ঘনিয়ে আসলো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা।পশ্চিমাদের অত্যাচার পূর্বাদের উপর।৬৯ গনুঅভ্যুথান পরে আসলো সেই ক্রান্তিকাল মানে ১৯৭০ সাল।আওয়ামীলীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়ার পরেও ক্ষমতাহীন!!!
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাঙালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রানপণ বাজি রেখে ঐক্যের ডাক দিলেন।৭ ঈ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিলেন, তখন ও জাতীর পিতার অনুষ্টানে নিরাপত্তা বিধানে নিযুক্ত ছিলেন রাজ্জাক, কিন্তু জাতীর জনকের সেই ভাষণকে হৃদয়ে গেথে রাখলেন তিনি, কারন যে এখনই যুদ্ধে যাওয়ার উপযুক্ত সময়!!!
রাজ্জাকদের মত যারা সামনে থেকে জাতীর জনকের সেই ভাষণ শুনলেন তারা আজো অবলীলায় বলে বেড়ান, ৭ ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানের সেই ভাষণই ছিলো বাঙ্গালীদের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীকার সংগ্রামের ঘোষণা।

২৫ শে মার্চ ভয়াল রাত!!!
অন্যান্য দিনের মত স্বাভাবিক কাজ সেরে দিনের ব্যাস্ততা পার করলেন, কিন্তু সেদিন সন্ধ্যা থেকে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে চলে গেলো।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যের বুঝতে সমস্যাই থাকলো না যে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।সেই রাতে নাইট পোশাক পরিহিতই থাকলেন রাজ্জাক,বঙ্গবন্ধু পূত্র শেখ জামালের তথ্যসূত্রে জানতে পারলেন পাকিস্তান থেকে ট্যাংক এর সাজানো বহর আসছে রাজারবাগ এবং পিলখানা আক্রমনে।
হিতাহিতভাবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না রাজ্জাক-মর্তুজারা।তখন বন্দুকে ছিল সীমিত গুলি।সালামী গার্ডে পাগলা ঘন্টার আওয়াজ হৃদয়কে প্রকম্পিত করলো।প্রানপণ বাজী ধরে ম্যাগজিন গার্ড ভাঙ্গায় লিপ্ত হলেন।কারন চাবি নিয়ে অফিসাররা যে যার মতো করে বিশ্রামে ছিলেন।অতর্কিত হামলা শুরু হলো, কেউ একজন বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছিলেন উঁচু করে।মনের জোর আসতে আর বিলম্ব হলো না, সামনেই যে দেশের পতাকা!এখনই জীবন বাজি না রাখলে আর কখন!!

সাড়ে তিন ঘন্টার প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ ছিলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের বাঙ্গালী পুলিশবাহিনী।একসময়ে থ্রী-নট রাইফেলের গুলি শেষ হওয়ার উপক্রম বুঝতে পেলেন, তখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের টেলিফোন ডিউটিতে থাকা লোকেরা সারা দেশের প্রত্যেকটা পুলিশ লাইনে খবর জানিয়ে দিলেন “তোমরা আমাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিও,আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি প্রাণ বাঁচানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ, তোমরা এদেশ স্বাধীন করতে প্রানপণ লড়ে যেও”।
কারন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের প্রত্যেকটা ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানের আর্মিরা।

রাজ্জাকরা তখনই প্রাণপণ যুদ্ধে লিপ্ত, ম্যাগজিনের তালা ভাঙ্গতে না পারায় বাশ-কাঠের লাঠিসোটা দিয়েও লড়াইয়ের পায়তারা শুরু করেছিলেন কিন্তু ভারী কামানের গোলায় একে একে অনেক প্রানের আত্মাহুতি হয়েছিল সেই রাতে।সাথে ২৫-৩০ টা পাক মিলিটারিকেও হত্যা করেছিলেন বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যরা।

অবিচল অসংখ্য বাংলা মায়ের পুলিশ সন্তানেরা আহত হয়েছিলেন সেসময়।পুলিশ হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক ও হারিয়েছিলেন দাড়িয়ে থাকার সম্বল ডান পা।তিন তলা বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়েছিলেন, আল্লাহ সহায় ছিলেন তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পেছনের দিঘীতে পড়ে যান।সেখান থেকে সাঁতার কেটে উঠে আসেন দীঘির পাড়ে, তখন তিনি আর দাড়াতেই পারলেন না।এক রিক্সাওয়ালার সহযোগীতায় এবং হাসপাতালের স্বরনাপন্ন হলেন, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পঙ্গুত্বকে বরণ করে হেটে হেটে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।বাড়িতে এসে দেখলেন পরিবারের সবাইকে শোকের মাতমে ভাসতে, কারন মাত্র দুই দিন আগে পিতামাতা তার কুলখানি করেছেন।খানিকটা সুস্থ হলে আবারো দেশ মাতৃকার টানে চলে যান রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, পঙ্গু অবস্থায় তিনি সদর কোর্ট এবং রায়পুরায় মুক্তি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি রায়পুরায় মেজর হায়দার সাহেবকে ১০ টি ৩০৩ রাইফেল এবং বিপুল পরিমান অস্ত্র সরবরাহ করেন।জীবনের ঝুকি নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তি বাহিনীর সাথে সখ্যতা গড়ে এদেশের স্বাধীনতার জন্য বিরামহীন খেটেছেন।কিন্তু, প্রাপ্ত সম্মানটুকু ও কখনো লুফে নেন নি।আজ অবধি তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম তুলেননি।

১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, কনস্টেবল আব্দুর রাজ্জাক আবারো পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।যুদ্ধ চলাকালীন ৯ মাসের বেতন ও গ্রহণ করেন।কিন্তু,তিনি পঙ্গুই ছিলেন।দিন দিন শারিরীক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিলো। সারা দেশের সাথে তিনিও আর্থিক অভাবে ছিলেন। পরবর্তিতে পুলিশ হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দীর্ঘ দিন।
স্বাধীন বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম আই জি পি এম এ খালেক সাহেব উনার শারিরীক অবস্থার খবর জানতে পেয়ে চিকিৎসার জন্য ২,৫০০/= টাকার চেক প্রদান করলেন।সেই সাথে তিনি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তহবিল হতে ৫০০/= টাকার চেক গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে আব্দুর রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এর স্বীকৃতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী সাহেব স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ লাভ করেন

পুলিশ কনস্টেবল আব্দুর রাজ্জাক, হাবীবুর রাহমান ও মোছাঃফয়জুন্নেছার সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।বড় ভাই দারোগা মৃত রুপা মিয়া এবং ছোট ভাই আব্দুস সোবহান সহ তিন ভাই ৭১ এর ভয়াল কালো রাতে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

অকোতভয়, সাহসী, প্রতিরোধ যোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক আজ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।বার্ধক্য ছোয়ে গেছে তার সংগ্রামী জীবনে, এখন দিন রাত তিনি সংগ্রাম করে বেড়ান নিজের শরীরের সাথে।কারন দিনের ২৪ ঘন্টার ১৮ ঘন্টাই তিনি কৃত্রিম অক্সিজেনের বোতল বয়ে বেড়ান।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটাই চাওয়া কোন স্বীকৃতি নয় একটু সম্মান চান দেশের হয়ে লড়ে যাওয়া এই বীর।

আপনার মন্তব্য

Check Also

ba6824ecec61db6d70ee54abfcaa72d9-59b05a4935e3d

যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে

যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের …