শীর্ষ সংবাদ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / স্বদেশ / ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা
picsart_09-01-11-52-03

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা

আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ ডটকম :

ত্যাগ, শান্তি আর আনন্দের অনাবিল সওগাত নিয়ে মুসলিম উম্মাহর কাছে আবার সমুপস্থিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিন বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশসমূহে উৎসবের ঈদ উদযাপিত হবে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় মুসলমানগণ আনন্দ উৎসব পালন করবে। ঈদের দিন সিলেটসহ দেশের সকল মুসলমান  বিনম্র  হৃদয়ে ঈদুল আজহার নামায আদায় করবেন এবং নামায শেষে মহান রবের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী দিবেন। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আজহা হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব।

প্রতি বছর হিজরি, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা হাজির হয় পশুত্ব প্রবৃত্তির কুরবানি করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করার সুমহান পসরা নিয়ে। ত্যাগের আনন্দে উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহা মানুষকে মানবিক চেতনায় পুষ্ট হয়ে জগতের সকল সৃষ্টির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার শিক্ষা দেয়। উৎসাহ জোগায় একটি সাম্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সামিল হতে। সংগত কারণে সমগ্র মুসলিমজাহান তো বটেই সমগ্র বিশ্বমানবের কাছে পবিত্র ঈদুল আজহার সীমাহীন গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে।
ঈদুল আজহা মানে ত্যাগের ঈদ। এই ঈদ মহান কুরবানির শিক্ষা দেয়। কুরবানি হচ্ছে মূলত ত্যাগ। ত্যাগের মধ্যেই এর সার্থকতা ও তাৎপর্য নিহিত। পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের এ শিক্ষাই দেয়। তবে ঈদ কেবল ত্যাগের নয়, উৎসব-আনন্দেরও। এ আনন্দের ধারা আমরা লক্ষ্য করি সর্বত্র। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাঁধভাঙা জোয়ার দেখা দেয়, যা নির্মল আনন্দেরই প্রকাশ। কুরবানিকে আরবি ভাষায় ‘উযহিয়্যা’ বলা হয়। উয্যাহিয়্যা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ওই পশু, যা কুরবানির দিন জবেহ করা হয়। ইসলামি শরীয়াতের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট সময়ে পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়। এটি একটি আর্থিক ইবাদাত। যার কারণে সবার উপরই কুরবানি করার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই যাদের ওপর কুরবানি আদায় করা আবশ্যক তাদের উচিত নির্দিষ্ট নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে পশু কুরবানি দেয়া। তবে কুরবানির মূল উদ্দেশ্য যেহেতু নিজেদের পশুত্বপ্রবৃত্তির কুরবানি করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করা সেহেতু এই উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের গৌরব-মর্যাদার প্রতীক হিসেবে কুরবানিকে বিবেচনা করা উচিত নয়। বর্তমান সময়ে অনেকেই কুরবানির মাধ্যমে নিজের আর্থিক সামর্থ্য জাহির করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিযোগিতাপ্রবণ কুরবানির কোনো মূল্য নেই আল্লাহর কাছে। মহান আল্লাহ কেবল ওই কুরবানিকেই কবুল করে থাকেন, যেটা কেবলই তাঁরই প্রেম-ভালবাসায় হয়ে থাকে।
বস্তুত মানুষের স্বচ্ছ-নির্মল হৃদয়ে পশুর স্বভাব বিদ্যমান থাকে। তাতে মানুষের স্বভাবে প্রকাশ পায় হিংসা-বিদ্বেষ, গর্ব-অহংকার, কপটতা, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা ইত্যাদি। মানবহৃদয়ের এই পশুত্ব মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে প্রধান বাধা। তাই পশু কুরবানির পাশাপাশি নিজেদের পশুত্বকে কুরবানি দিতে হয় তাকওয়ার শাণিত ইচ্ছার মাধ্যমে। আর তখনই প্রতীকী পশুর কুরবানি সার্থক হবে।আল্লাহ তালার উদ্দেশে পশু কুরবানী উপলক্ষ হলেও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা। সেদিক থেকে ঈদুল আজহা একটি অত্যন্ত মহিমান্বিত দিন। আরবি শব্দ ঈদ-এর অর্থ আনন্দ উৎসব এবং আজহা’র অর্থ পশু জবাই করা। অর্থাৎ ঈদুল আজহা একই সঙ্গে পশু কুরবানী দেয়ার এবং উৎসব করার দিন। প্রসঙ্গত, একশ্রেণির মুসলমান ঈদুল আজহাকে কেবলই পশু কুরবানী দেয়ার এবং উৎসব করার দিনে পরিণত করলেও দিনটির প্রধান উদ্দেশ্য মুসলমানদের মধ্যে আল্লাহতা’লার প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা ও আনুগত্য তৈরি করা এবং স্বার্থচিন্তার উচ্ছেদ করে আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়া। আল্লাহতা’লার কাছে নিজেকে সম্পর্ণরূপে সমর্পণ করাই ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা। সুতরাং কেবলই লোক দেখানোর জন্য বেশি টাকায় পশু কিনে কুরবানী দেয়ার পরিবর্তে মুসলমানদের উচিত নিজেদের আল্লাহতা’লার কাছে সম্পূণূরূপে সমর্পণ করার এবং তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। একই কারণে পশু কেনা উচিত সৎপথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে। পশুর গোশ্ত যত বেশি সম্ভব আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যেও কল্যাণ রয়েছে। এভাবে সব মিলিয়েই কুরবানী তথা আত্মত্যাগ করার শিক্ষা দেয় পবিত্র ঈদুল আজহা। আমরা আশা করতে চাই, বাংলাদেশের মুসলমানরাও দিনটির মূল শিক্ষা অনুধাবন করবেন এবং চেষ্টা করবেন যাতে প্রতিবেশী ও স্বজনসহ অন্যরাও উৎসবে শরিক হতে পারেন।

 

কুরবানীর ঈদ আনন্দ-বিনোদনের সাথে আমাদের মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনেও উদ্বুদ্ধ করে থাকে। আনন্দ উৎসবের এমন ব্যতিক্রমী উদাহরণ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি লক্ষ্য করা যাবে না। তবে, কুরবানীর ঈদ আমাদের যে আহ্বান জানিয়ে যায়, যে চেতনা জাগ্রত করতে চায়, তা আমরা বাস্তব জীবনে কতটা চর্চা করছি, সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে? কুরবানীর ত্যাগ-তিতীক্ষা ও তাকওয়ার চেতনা আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সমাজজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে লক্ষ্য করা যায় না। এটি দুঃখজনক। ঈদুল আজহার বার্তা গ্রহণ করে তা আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারলেই কেবল ঈদের ফল্গুধারায় পুরো জাতি আনন্দমুখর হতে পারবে। নানা সীমাবদ্ধতা ও সঙ্কট সত্ত্বেও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত হোক ঈদুল আজহা। সবার জীবনে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ.কম এর  পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা,  শুভানুধ্যায়ী সবাইকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

-সম্পাদক

আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ.কম

আপনার মন্তব্য

Check Also

ba6824ecec61db6d70ee54abfcaa72d9-59b05a4935e3d

যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে

যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের …