শীর্ষ সংবাদ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / নৈসর্গ / আগর শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা

আগর শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা

আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জ | রবিবার, ২৩অক্টোবর ২০১৬|

প্রতি লিটারের রফতানি মূল্য ৬ লাখ টাকা। তাই স্থানীয়রা ‘তরল সোনা’ বলেই ডাকে আগর-আতরকে। প্রক্রিয়াজাতকরণে গ্যাসের অভাব, বন বিভাগের অসহযোগিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ গালফভুক্ত দেশগুলোতে প্রতি বছর ১৫ শ’ লিটার আগর রফতানি হচ্ছে। অপ্রচলিত পণ্য হওয়ায় রফতানি করতে হচ্ছে বিকল্প পথে। এ কারণে সরকারেরও সুনজর পড়েনি।

এরপরও এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এগিয়ে চলছে আগর-আতর চাষীরা। সরকারের সহযোগিতা পেলে বিলিয়ন ডলার রফতানি সম্ভব বলে জানান তারা।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলাজুড়েই আগর-আতর ক্লাস্টার। এই এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে রয়েছে আগর গাছ। সাড়ে ৩ শ’ পরিবারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৫ হাজার লোক আগর-আতর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে ছেলে-বুড়োরাও কাজ করছেন। নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে উঠেছে শতাধিক কারখানা। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেদের এজেন্টদের মাধ্যমে অর্ডার পাওয়ার পর আগর গাছকে প্রক্রিয়াজাত করে সুগন্ধি আতর তৈরী করা হয়। গাছের কাঠও রফতানি হয়। চাহিদা থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও গাছ সংগ্রহ করতে আসেন ব্যবসায়ীরা।

২০১০-১১ সালে বড়লেখা উপজেলাকে আগর-আতরের ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করে এসএমই ফাউন্ডেশন। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ক্লাস্টার ঘোষণা পর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ, ঋণ বিতরণ, পণ্যের মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে কাজ করে চলেছে। বর্তমানে সিঙ্গেল ডিজিটে ৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বড়লেখার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগরকে ক্ষুদ্রশিল্প হিসেবে ঘোষণা দেন।

মূলত এরপর থেকেই আগর-আতর শিল্পের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু। নিজস্ব উদ্যোগে আগর গাছের বাণিজ্যিক বনায়ন শুরু করে বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দারা। এটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক কারখানা।

আগর গাছের পাতা থেকে শুরু করে ছাল সবই রফতানি হয়। এ গাছের কোনো অংশই ফেলনা নয়। মূল্যবান গাছ হওয়ায় বড়লেখা উপজেলার প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে আগর গাছ।

এই আগর-আতর শিল্প বিকাশে প্রধান বাধা সাইটিস সার্টিফিকেট (বিলুপ্ত নয় এমন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রফতানিতে দেওয়া সনদপত্র) ও পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাব। গ্যাস সংযোগ থাকলেও চাপ না থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় আগর-আতরকে। এতে বছরে ২৩ থেকে ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে প্রাকৃতিক বনের ওপর। আবার আগরকে শিল্প ঘোষণা করা হলে কর্মাশিয়াল ইউনিট হিসাব করে গ্যাস বিল নেওয়া হচ্ছে। এতে আগর-আতর প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় বাড়ছে।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, আগর গাছকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করে আতর উৎপাদন করা হয় বলে শতভাগ মূল্য সংযোজন হয়। বিদেশ থেকে কোনো যন্ত্রপাতি আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। আগর প্রক্রিয়াজাতকরণে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এখানে গ্যাস সংকটই প্রথম বাধা। গ্যাসের চাপ কম, প্রয়োজনে চাইতে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় লোকসান দিতে হচ্ছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের সহযোগিতা চান আগর ব্যবসায়ীরা।

এরপরই রয়েছে বৈধ পথে রফতানির বিভিন্ন ঝক্কি-ঝামেলা। বিশেষ করে বন বিভাগের দেওয়া সাইটিস সার্টিফিকেট পেতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সার্টিফিকেট ঢাকায় বন ভবন থেকে ইস্যুর কারণে প্রতিনিয়তই ধর্ণা দিতে হয় বন ভবন অফিসে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বড়লেখা উপজেলা অথবা মৌলভীবাজারের বন বিভাগের অফিস থেকে অল্প সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট দেওয়া হলে রফতানি বাড়বে বহুগুণ।

এ ছাড়া আমদানিকারক দেশেও রয়েছে উচ্চ শুল্ক বাধা। তাই রফতানিতে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সরকার যদি আমদানিকারক দেশে শুল্ক হার কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে তাহলে বৈধ পথেই রফতানি সম্ভব। কারণ বিকল্প পথে রফতানি হওয়ায় সরকারি খাতায় যোগ হচ্ছে না রফতানি মূল্য। অর্থ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে। এতে সরকার তেমন সুফল পাচ্ছে না।

তাদের মতে, সরকারের একটুখানি সহযোগিতা পেলে এ শিল্প থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে আগর এ্যান্ড আতর ম্যানুফেকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনসারুল হক বলেন, ‘এ শিল্পে সঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার লোক জড়িত। শতভাগ রফতানিমুখী এ শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সরকারের নীতি সহায়তা। কোনো অনুদান, অনুকম্পা নয়। আমরা চাই, অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পকে সরকার যে ধরনের নীতি সহায়তা দিয়ে থাকে এ শিল্পকে সে সহায়তা দেওয়া হোক।’

আগর শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগর-আতরকে শিল্প সুবিধার আওতায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে প্রতিবছর এক বিলিয়ন ডলার রফতানি সম্ভব। বিশেষ করে কারখানা বাণিজ্যিক হারে গ্যাস বিলের পরিবর্তে শিল্প হারে বিল

আগর শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগর-আতরকে শিল্প সুবিধার আওতায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে প্রতিবছর এক বিলিয়ন ডলার রফতানি সম্ভব। বিশেষ করে কারখানা বাণিজ্যিক হারে গ্যাস বিলের পরিবর্তে শিল্প হারে বিল, রফতানি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ ইনসেনটিভ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগর গাছ বিক্রির নিলাম নোটিশ সংগঠনকে জানানো, শিল্পের মান নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে বন বিভাগ নিলামে গাছ বিক্রি করছে। এর মধ্যে অতি মূল্যবান আগর গাছ থাকছে। না চেনার কারণে এসব গাছ অন্যান্য গাছের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।’ এ ধরনের গাছ নিলামের ক্ষেত্রে আগর-আতর এসোসিয়েশনকে জানানো দাবি জানান তিনি।

ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য নিয়ে দর কষাকষি করা যায় না। কারণ এখানকার আগরের মান নির্ণয়ে কোনো টেস্টিং ল্যাব নেই। এ কারণে ক্রেতারা পণ্যের যেই দর নির্ধারণ করে সে দরেই বিক্রি করতে হয়। অথচ বাংলাদেশ থেকে ভারতের ব্যবসায়ীরা আগর-আতর নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

আগর-আতর চাষী কাসেম মিয়া বলেন, ‘আগর- আতর গাছ বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ না হওয়া সত্ত্বেও রফতানিতে সাইটিস সার্টিফিকেট লাগে। এটিই আগর-আতর রফতানির প্রধান সমস্যা। বন বিভাগের ঢাকা অফিস থেকে এই সার্টিফিকেট ইস্যু করায় নানা ঝক্কি-ঝামেলা পেহাতে হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাইটিস সার্টিফিকেট নিয়ে ঝামেলার কারণে অনেক সময় ক্রেতার নির্ধারিত সময়ে পণ্য রফতানি করা সম্ভব হয় না। ফলে আগর-আতর রফতানিতে সাইটিস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

আপনার মন্তব্য

Check Also

কুলাউড়ার ব্রাম্মনবাজার টু ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে মোটরসাইকেলের মুখামুখি সংঘর্ষে নিহত ১ ও ২ জন আহত

এমরান আহমেদ :: কুলাউড়ার ব্রাম্মনবাজার টু ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে বরমছাল মাদ্রাসা বাজারের সামনে মোটরসাইকেলের মুখামুখি সংঘর্ষে …